নিজস্ব প্রতিবেদক:

গত ২৭ জুলাই সকাল ১১ টার দিকে কক্সবাজার সদরের বাংলাবাজার এলাকায় “প্রায় ১ লাখ পিস ইয়াবা লুটের ঘটনা নিয়ে তোলপাড়” বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান।

বিশেষ করে স্থানীয় চেয়ারম্যান নিশ্চিত করার কারণে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, বাংলাবাজার ও পিএমখালি এলাকা কেন্দ্রিক একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ওই সিন্ডিকেটের ২ সদস্য পিএমখালী এলাকার করিম ও উখিয়া কোট বাজার এলাকার হেলাল। এই দুই মাদক বিক্রেতা বাংলাবাজারের অন্যতম মাদক কারবারি শাহজাহানের কাছ থেকে ইয়াবা ক্রয় করে ধরা খাওয়ার পরে ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়। তাদের স্থানীয়রা আটকের পরে ছবি এবং ভিডিওর মাধ্যমে জবানবন্দি নিয়ে বিভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে দেয়। পরে তাদের কাছ থেকে দুই পিস ইয়াবা পাওয়া যায় ।

এই সামান্য ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে পুলিশ প্রশাসনকে ও গণমাধ্যমে স্থানীয় চেয়ারম্যান মিথ্যা তথ্য দিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কক্সবাজারের একমাত্র খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক (বীরপ্রতীক) পুত্র ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খোরশেদুল হককে সামাজিকভাবে মানহানি করতেই এমনটি করেছে বলে জানান এলাকাবাসী।

এদিকে, বাংলাবাজারের ইয়াবা লুটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খোরশেদুল হকের নাম প্রচার হওয়ায় প্রশাসনিক অভিযানের মাধ্যমে ২৮ তারিখ সকাল ১১ টায় তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। আটকের পর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নিবিড়ভাবে তদন্ত করেন পুলিশ প্রশাসন। এই তদন্ত চলে রাত দুইটা পর্যন্ত। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পুলিশের কাছ থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হয় চেয়ারম্যান প্রার্থী খোরশেদ। নির্দোষ প্রমাণের পর তাকে সসম্মানে মুক্তি দেওয়া হয়। এখন তিনি নিজ বাসায় অবস্থান করছেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা থেকে বের হয়ে দৈনিক বাংলাদেশ জাগরণের এ প্রতিবেদককে চেয়ারম্যান প্রার্থী খোরশেদুল হক বলেন, মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টতা আছে এমন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায়, পুলিশ আমাকে সন্দেহভাজনভাবে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমি এবং আমার পরিবার সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছি, সমাজকে যারা ধ্বংস করার জন্য মাদক ব্যবসা অত্র এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাদের মুখোশ উম্মোচিত হবে বলেই আমার প্রতিবাদকে রুখে দেওয়ার নিমিত্তে সাংবাদিক ভাইদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাকে মানহানি করার জন্য এসব চক্রান্ত করেছে একটি নির্দিষ্ট মহল।

আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার পুলিশ ভাইদের প্রতি। সুষ্ঠু তদন্ত করে কোন ধরনের মাদকের সংশ্লিষ্ট না পাওয়ায় আমাকে নির্দোষ প্রমাণিত করেছেন। আবারও প্রমাণিত হলো পুলিশ আসলেই জনতার প্রকৃত বন্ধু।

তিনি আরো বলেন, প্রকৃতপক্ষে বাংলাবাজার বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অফিসের সামনে মাদক বিক্রি হওয়ার ভিডিও আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে আপলোড করলেই সমস্যায় পড়ে, বাজার কমিটি তথা স্থানীয় চক্রান্তকারী প্রভাবশালী গোষ্ঠী।

তিনি সম্পূর্ণ ঝিলংজা ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করার জন্য সামাজিকভাবে কাজ করে যাবেন বলে জানান। সেই সাথে যারা ইয়াবা লুটের তথ্য দিয়েছে সাংবাদিক ভাই ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে, তাদের কাছ থেকে সঠিক তথ্য বের করে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের সমাজ থেকে নির্মূল করার জন্য আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক, এটাই আমার একান্ত চাওয়া। আমরা চাই মাদকমুক্ত, সুন্দর, সমৃদ্ধ সমাজ ও সোনার বাংলা।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান কবির বলেন, ঝিলংজার বাংলাবাজার এলাকায় ইয়াবা লুটের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যসূত্রে নাম প্রকাশ হওয়ায় আমরা সন্দেহজনকভাবে তাকে আটক করি। আটকের পর যাচাই-বাছাই এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হয়। তবে ইয়াবা লুটকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন