ভার্চুয়াল জগতে সাহেদ গংদের আলোচনায় হারিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগি ভাতৃপ্রতিম সংগঠন সমূহের জনকল্যাণ মূলক সকল কর্ম।
করোনাকালীন সময়ে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ অন্য সকল দল মতের চাইতে ক্ষমতাশীল দল আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠন সমূহের কর্মীদের ভূমিকা সকলের চাইতে বেশি। কেন্দ্র থেকে তৃনমূল সকল ক্ষেত্রের নেতাকর্মীরা নিরলস কাজ করছে মানুষের তরে।
সেখানে হাইব্রিড কিংবা অপকর্মকারী কারো কারো অপকর্ম নিয়ে আমাদের এত কৌতূহল কিংবা প্রচার করে আমরা কি নিজেদেরকে নিজেরাই কুলসিত করছি না?
কথায় আছে A nation know by its citizen, a civilization by its humanity. And a society by its peoples,not by the hypocrites।
ভার্চুয়াল জগতে দেশ বিরোধী শক্তি ও ফেইক আইডির দৌরাত্ব অনেকাংশেই বেশি। সেখানে আমাদের ও অতি উৎসাহী মনোভাব হিপক্রেট হিসেবে তাদের ষড়যন্ত্রের রসদ সরবারহ করছে।
আমাদের বহু কর্মী ভাইদের দেখছি নিজেরাই ট্রলপোষ্ট শেয়ার করছেন। কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছেন এই ট্রল কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে আপনার কিংবা দলের ভাবমূতি নষ্ট করতেই তাদের উদাহারন হিসেবে কাজ করবে।
অন্যায়কারীর কোন দল নাই। সে অপরাধী তাই তার পরিচয় অপরাধী হওয়া উচিত। আমরা কেন লক্ষ করছি না এই অপরাধীদেরকেই আমাদের নীতি নির্ধারক করে গড়ে তুলতে সবাই তাদের সহযোগিতা করে। যেমন ধরুন মিডিয়া কিন্তু আমাদের এই সাহেদ গংদের কথা শুনিয়ে তাদের আর্দশ বুক ধারন করতেই বাধ্য করছে। আমাদের দলের নৈতিকতাহীন কিছু নেতা তাদের আশ্রয় প্রশয় দিচ্ছে কিন্তু স্রষ্টার বিচারে তারা ঠিকই তাদের স্বরূপ দেখাচ্ছে সময়ে সময়ে।

ঠিক এই মূহুর্তে আমাদের করনীয় কি?
এক্ষেত্রে আমার একান্ত পরামর্শ হলো, দলের এসকল ঝুড়ে বসা বুদ্ধিজীবীদের আমরাই প্রতিহত করতে পারি। যার রাজনৈতিক কোন ব্রাকগ্রাউন্ড নাই সে দলীয় এমপি হলেও আমাদেরকে বুঝতে হবে সে সরকারের দেশ পরিচালনার কৌশল দলের নীতি নির্ধারক নয়।
তাই দলের সিদ্ধান্তে এধরনের ঝুড়ে বসা ব্যাক্তিদের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিব না। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে দলের নির্দেশনাই আমাদের মূখ্য হওয়া উচিত।
তাদের মিষ্টি কথায় ভুলে না গিয়ে দলীয় নেতার কটু কথাকে মেনে নেওয়াও অনেক বেশি কর্যকর। চট্টগ্রামের প্রয়াত নেতা এ,বি,এম মহিউদ্দীন চৌধুরি তার অন্যতম, উৎকৃষ্ট উদাহারন হতে পারে।
আমরা সচারচর একটি স্লোগান দেই, এক মুজিব লুকান্তরে লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে ” ঠিক তেমনি নিজেকে পিতা মুজিবের ভূমিকায় অবতীর্ণ করে আর্দশিক রাজনৈতিক চর্চায় নিজেই সঠিক বেঠিক সকল সিদ্ধান্ত নিতে হবে ।
চোরকে চোর, হজুরকে হুজুর বলতে হবে।আমার নেতা কাউকে ফেরেস্তা বললেই তিনি ফেরেস্তা হবেন সেটা যেমন সত্য নয় তেমনি নেতার কাছে যিনি ফেরেস্তা জনতার কাছে তিনি শয়তানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে, “people deserve government ” দেশের জনতার আচার আচরনই তাদের সরকারকে প্রতিফলিত করে। তাই নিজে পরিবর্তন না হয়ে দল, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের পরিবর্তন কখনো সম্ভব না।
আপনার নৈতিকতাই সরকারকে নৈতিক করে গড়ে তুলবে। আপনার মেনে নেওয়া সরকারকে মেনে নিতে বাধ্য করবে। সাহেদ গংদের আমরা মেনে নিয়ে মথায় তুলে ছিলাম বলেই আজ তারা আমাদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খেতে সাহস পেয়েছে।
দলের ভালো দিক তুলে ধরুন। আপোষ না করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতেই থাকুন। সবাই হয়তো আপনার বিপক্ষে যাবে তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ইতিহাস রচনাকারীরা সর্বদা একাই প্রতিবাদ করেছে। তাদের প্রতিবাদী কন্ঠস্বরই তাদেরকে জনতার নেতায় পরিনত করেছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন